প্রতিবেদক: বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২৫ | ঢাকা
বাংলাদেশে আবারও বাড়ছে করোনা সংক্রমণের হার। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদফতর মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল সোমবার (২৩ জুন) সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে মোট ৪৪১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২১টি পজিটিভ আসে। ফলে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৭৩ জনের, এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মৃত্যু হওয়াদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি, যা নতুন করে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও মহামারির প্রাথমিক ভয়াবহতা অনেকটাই কমে গেছে, তবুও নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট ও কম টেস্টিং-এর কারণে প্রকৃত সংক্রমণ পরিস্থিতি স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে শনাক্ত হওয়া রোগীদের বেশিরভাগই রাজধানী ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাস করছেন। যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতর পৃথক জেলা-ভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন—অসচেতনতা ও মাস্ক ব্যবহারে ঢিলেমি সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে, বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আবারও হালকা উপসর্গের রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে বয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা উপসর্গে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও, বেশ কিছু রোগীর শ্বাসকষ্ট ও দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে, যা ভাইরাসটির প্রভাবকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করার সুযোগ রাখে না।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বেশিরভাগই হোম আইসোলেশনে থেকে সুস্থ হয়েছেন। সুস্থতার হার প্রায় ৯৫ শতাংশ থাকলেও, বয়স ও কো-মরবিডিটি থাকলে মৃত্যুঝুঁকি এখনও প্রবল।
এ বছরের মোট ১৯ জন মৃত্যুর মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি হওয়াকে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।
বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইনফেকশাস ডিজিজেসের এক সিনিয়র চিকিৎসক বলেন, “নারীরা পরিবারে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে পিছিয়ে থাকেন। করোনার ক্ষেত্রে এই প্রবণতা এখনও রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ না করার কারণে ঝুঁকি বেড়ে যায়।”
বিশেষ করে গৃহিণীদের মধ্যে উপসর্গ লুকানোর প্রবণতা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের ঘাটতি করোনার জটিলতা বাড়াতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, করোনার নতুন ঢেউ এড়াতে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। নিয়মিত হাত ধোয়া, জনসমাগমে মাস্ক ব্যবহার, এবং টিকা গ্রহণ এখনও যথেষ্ট কার্যকর প্রতিরোধমূলক উপায়।
একই সঙ্গে বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীদের জন্য বিশেষ যত্নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
করোনার টিকার নতুন ডোজের বিষয়েও প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ২০২৪ সালের শেষে পাওয়া নতুন ভ্যারিয়েন্ট-বিষয়ক আপডেটেড mRNA টিকার জন্য অনলাইন নিবন্ধন চালু করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা চাই, হাইরিস্ক গ্রুপকে নতুন আপডেটেড টিকা দিতে পারি। এজন্য চীন ও ইউরোপ থেকে নতুন টিকা আমদানির আলোচনা চলছে।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানায়, দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হার অনেকটা স্থিতিশীল। তবে কম টেস্ট এবং উপসর্গবিহীন সংক্রমণ এই চিত্রকে আংশিক বানিয়ে রেখেছে।
বিশ্বব্যাপী নতুন কিছু ওমিক্রন সাবভ্যারিয়েন্ট (বিশেষ করে XBB ও JN.1) ইতোমধ্যে বেশ কিছু দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে এই ভ্যারিয়েন্টগুলো এখনও বড় আকারে শনাক্ত হয়নি, তবে জিনোম সিকোয়েন্সিং জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |